| বঙ্গাব্দ

ওপেক ছাড়ার পর আমিরাতের তেল উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চে | ওপেকের খবর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-07-2026 ইং
  • 10307 বার পঠিত
ওপেক ছাড়ার পর আমিরাতের তেল উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চে | ওপেকের খবর
ছবির ক্যাপশন: ওপেকের খবর

ইরানি ড্রোন এড়াতে ‘ডার্ক ভেসেল’ ও গোপনে তেহরানকে অর্থপ্রদান; হরমুজ প্রণালী ফাঁকি দিয়ে আমিরাতের তেল বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬

জ্বালানি খাতের আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী জোট ওপেকের (OPEC) দীর্ঘদিনের কঠোর বাধ্যবাধকতা ও কোটা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) তার খনিজ অপরিশোধিত তেল উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ওপেকের মূল নেতৃত্বদানকারী দেশ সৌদি আরবের সাথে দীর্ঘদিনের নীতিগত ও ভূরাজনৈতিক দূরত্বের কারণে গত মে মাসে জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করে আবুধাবি।

এর পর পরই নিজেদের তেল উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে গত জুন মাসে দৈনিক ৪১ লক্ষ ব্যারেলে উন্নীত করেছে দেশটি, যা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে দেশটির দৈনিক গড় উৎপাদন ছিল ৩৫ লক্ষ ব্যারেল এবং ২০২০ সালে রাশিয়া-সৌদি আরব মূল্যযুদ্ধের (Price War) সময় সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৪০ লক্ষ ব্যারেল।

সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্ব এবং ট্রাম্পের স্বস্তি

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই আবুধাবি মনে করত সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ওপেক জোট তাদের একক তেল উৎপাদন ও বৈশ্বিক বাজার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা। নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আমিরাত জ্বালানি খাতে শত কোটি ডলারের বিপুল নতুন বিনিয়োগ করলেও, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য কৃত্রিমভাবে ধরে রাখার স্বার্থে সৌদি আরব তাদের বেশি তেল উৎপাদনে প্রতিনিয়ত বাধা দিচ্ছিল।

অবশেষে ইয়েমেন, সুদান ও ইসরাইল ইস্যুতে রিয়াদের সাথে কূটনৈতিক ও কৌশলগত দূরত্বের জেরে গত মে মাসে ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগ করে আবুধাবি। ওপেকের ওপর বড় ধরনের ধাক্কা দেওয়া আমিরাতের এই একক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ওয়াশিংটন বেশ উদ্বিগ্ন ছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও, পশ্চিমা দেশগুলোর জরুরি কৌশলগত মজুত (Strategic Reserves) উন্মুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চীনের তেল আমদানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার কারণে বৈশ্বিক বাজার বড় ধরনের বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।

ইরানের চোখ ফাঁকি দিতে ‘ডার্ক ভেসেল’ ও কোটি ডলারের চুক্তি

তবে তীব্র ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝেও পারস্য উপসাগরের অতি স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারিকে ফাঁকি দিয়ে তেল রপ্তানি সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। হরমুজ প্রণালি এড়াতে দেশটির একটি প্রধান তেল পাইপলাইন ফুজিরাহ বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যা সরাসরি ওমান উপসাগরে গিয়ে মিলেছে।

তবে এই গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটি যেকোনো সময় ইরানি আত্মঘাতী ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকায় বিকল্প ও চাঞ্চল্যকর পথও বেছে নিয়েছে আবুধাবি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে— যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন-ইসরাইলি জোটের অংশ হিসেবে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালালেও, পরবর্তীতে আমিরাত তার কৌশল পরিবর্তন করে এবং নিজেদের তেলক্ষেত্রগুলোতে হামলার ঝুঁকি এড়াতে পর্দার আড়ালে ইরানকে বিপুল পরিমাণ গোপন অর্থ প্রদান করে। একই সাথে সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানায়, আন্তর্জাতিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বা ট্রান্সপন্ডার সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে ‘ডার্ক ভেসেল’ (Dark Vessel) বা ছদ্মবেশী ট্যাংকারের মাধ্যমেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে গোপনে তেল সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে তারা।

আইএইএ (IAEA) তাদের প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ক্রমান্বয়ে বাড়লেও যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় শোধিত জ্বালানি পণ্যের (যেমন ডিজেল, এলপিজি ও জেট ফুয়েল) বৈশ্বিক সরবরাহ এখনো অর্ধেকেরও কম রয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে, যারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি প্রিমিয়াম বা চড়া মূল্যে তেল কিনতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও নিজস্ব বিশাল তেল ট্যাংকার বহর ব্যবহার করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্ল্যাক-সি বা পারস্য উপসাগরীয় পথে উচ্চ ভাড়ায় জাহাজ পরিচালনায় রাজি থাকা নৌ-মালিকদের কাজে লাগিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের একচ্ছত্র অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তুলছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এক নজরে আমিরাতের ওপেকের বাইরে তেল বাণিজ্যের সমীকরণ (১১ জুলাই, ২০২৬)

  • দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল: ওপেক জোট ছাড়ার পর রেকর্ড দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে আমিরাত

  • সৌদি আরবের সাথে ফাটল: তেলের কোটা এবং ইয়েমেন-ইসরাইল ইস্যুতে রিয়াদের সাথে দূরত্বের জেরে মে মাসে ওপেক ছাড়ে আবুধাবি

  • ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাগত: আমিরাতের তেল উৎপাদন বাড়ায় মার্কিন বাজারে জ্বালানির দাম কমার আশায় খুশি ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • ইরানকে গোপন অর্থ: তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা এড়াতে ইরানকে গোপনে বিপুল অর্থ দেওয়ার দাবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের

  • ছদ্মবেশী ডার্ক ভেসেল: হরমুজ প্রণালির নজরদারি এড়াতে ট্র্যাকিং বা জিপিএস বন্ধ রেখে ‘ডার্ক ভেসেল’ দিয়ে তেল সরবরাহ করছে আমিরাত

অর্থনীতি ডেস্ক | ওপেকের নতুন খবর ২০২৬, সংযুক্ত আরব আমিরাত তেল উৎপাদন, সৌদি আরব বনাম আমিরাত দ্বন্দ্ব, বিশ্ববাজার জ্বালানি তেলের দাম ও আইএইএ রিপোর্ট সেল

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই রেকর্ড তেল উৎপাদনের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি কত ডলারে নামল, ওপেকের পরবর্তী বৈঠকে সৌদি আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও ভূরাজনীতির প্রতি মুহূর্তের লাইভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency